#
অগ্নিদগ্ধে আহত মা, নিহত মেয়ে ও সৎ বাবার আত্মহত্যা
জুন ১৩, ২০১৯, ৮:৩১ অপরাহ্ণ

মো: আসাদুল হক সবুজ,জেলা প্রতিনিধি, বরগুনাঃ

বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলার রুহিতা গ্রামে সৎ মেয়ে ও প্রাক্তন স্ত্রী বসত ঘরে গভীর ঘুমে থাকা অবস্থায় উক্ত ঘরে পেট্রোল দিয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। অগ্নিদগ্ধ হয়ে ১০ বছর বয়সী মেয়ে কারিমা আক্তার ঘটনাস্থলোই মারা যায় এবং তার মা সাজেনুর বেগমের (৩০) গুরুতর দগ্ধ হয়। সাজেনুর বেগমের শরীরের প্রায় ৮০শতাং আগুনে পুড়ে মারত্মক পোড়া জখম হয়। বর্তমানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। এ ঘটনায় অভিযুক্ত বেল্লাল (৩০)আত্মহত্যা করেছে। গতকাল বুধবার রাত ০২.৩০ মিনিটের সময় বরগুনা জেলার পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের রুহিতা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের রুহিতা গ্রামের সাজেনুরের পিতার বাড়ির বসতঘরে সাজেনুর ও তার কন্যা কারিমা ঘুমিয়ে ছিল। তাদেরকে পুড়িয়ে হত্যা করার উদ্দেশ্যে সাজেনুর এর প্রাক্তন স্বামী বেল্লাল হোসেন উক্ত ঘরে পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। মূহুর্তের মধ্যেই আগুন সমস্ত ঘরে ছড়িয়ে পড়লে প্রানে বাঁচার জন্য সাজেনুর তার ১০ বছরের কন্যাকে নিয়ে ঘর থেকে বের হবার চেষ্টা করে। এ সময় বেল্লাল ঘরের দরজায় দাড়িয়ে তাদের বের হতে বাঁধা দেয়। প্রানে বাঁচার তাগিদে সাজেনুর বেল্লালকে ঝাপটে ধরে। এতে বেল্লালও সামান্য অগ্নি দগ্ধ হইলেও মেয়ে কারিমা ঘটনাস্থলেই অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যায়। আহত সাজেনুরের শরীরের প্রায় ৮০ ভাগ গুরুতর দগ্ধ হয়ে যায়। মা মেয়ের আর্ত চিৎকারে পার্শবর্তী ঘরের লোকজন ঘটনা স্হলে আসার আগেই বেল্লাল ধস্তাধস্তি করে পালিয়ে যায়। বৃহস্পতিবার দুপুরে গলায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় বেল্লালের লাশ পার্শবর্তী খালে পাওয়া যায়। তবে পুলিশের প্রাথমিক ধারনা, বেল্লাল খালের পাড়ে গাছের সাথে রশি দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়েছে। রশি ছিড়ে লাশ খালে পড়েছে, বেল্লালের মরদেহ ময়না তদন্তের পরে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারন জানা যাবে।

বুধবার রাতেই অগ্নিদগ্ধ সাজেনুরকে স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় পাথরঘাটা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করায়। সাজেনুরের শারীরিক অবস্থার অবনতি হইলে বৃহস্পতিবার (১৩জুন) সকালে অগ্নিদগ্ধ সাজেনুরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। নিহত কারিমা ও বেল্লালের মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য বরগুনা মর্গে পাঠানো হয়েছে। অগ্নিদগ্ধে গুরুতর আহত সাজেনুরকে চিকিৎসার জন্য উপজেলা প্রশাসন থেকে নগদ ১০ হাজার অনুদান দেয়া হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী এবং সাজেনুরের চাচাতো ভাই ইব্রাহিম জানান, নিহত কারিমার বাবার নাম হাসান, তার বাড়ি ঐ একই উপজলার চরদুয়ানি গ্রামে আর ঘাতক বেল্লাল হোসেন বাড়ি বরগুনার তালতলী উপজেলার ছকিনা এলাকায়। প্রায় দেড় বছর আগে সাজেনুরের সাথে বেল্লালের বিবাহ হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহ লেগেই থাকত। এ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে একাধিকবার শালিসী ব্যবস্থাও হয়েছে। দের মাস আগে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়।বেল্লাল পুনরায় সাজেনুরের সাথে দাম্পত্য জীবন শুরু করতে চেয়েছিল কিন্তু সাজেনুর তার প্রস্তাবে রাজি না হবার কারনে মা ও মেয়েকে পুড়িয়ে মারার পরিকল্পনা করে বেল্লাল ও সাজেনুরের পিতার বসতঘরে অগ্নি সংযোগ করে।

সাজেনুরের ফুফাতো বোন ফাতেমা বেগম বলেন, আমার বোন সাজেনুর অসুস্থ্য অবস্থায় বলেছে,ঘটনার সময় ঘর থেকে বের হতে চাইলেও বেল্লাল মা-মেয়েকে রামদা দিয়ে ধাওয়া করে ভয়ভীতি দেখাইলে ঘর থেকে আর মা-মেয়ে বের হতে পারে নাই। ঘরের মধ্যেই আগুনে পুড়ে মেয়ে কারিমা মারা যায়।

পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার মো. জিয়া উদ্দিন বলেন, সাজেনুরের অবস্থা আশঙ্কাজনক,তার শরীরের ৮০ ভাগই পুড়ে গেছে।

পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হানিফ শিকদার বলেন, লাশ ময়না তদন্তের জন্য বরগুনা মর্গে পাঠানো হয়েছে।