• top news
  • »
  • অসৎ আবাসন ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে: গণপূর্তমন্ত্রী

অসৎ আবাসন ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে: গণপূর্তমন্ত্রী

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৯, ৪:৫৪ অপরাহ্ণ

আবাসন খাতের গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা করছেন গুটিকয়েক ব্যবসায়ী। তাদের কারণে পুরো আবাসন খাত কলঙ্কিত হচ্ছে। এ খাতকে কলঙ্কমুক্ত করতে প্রতারক উদ্যোক্তাদের তথ্য দিতে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ. ম. রেজউল করিম।

তিনি বলেন, সরকারের চেয়ে শক্তিশালী কেউ হতে পারে না। ফলে তথ্য পেলে অসৎ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বুধবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে রিহ্যাব মেলা-২০১৯ উদ্বোধনকালে গণপূর্তমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বুধবার শুরু হওয়া এবারের রিহ্যাব মেলা চলবে আগামী রোববার পর্যন্ত।

শুধু অসৎ ব্যবসায়ী নয়, আবাসন খাতের সঙ্গে যুক্ত দুর্নীতিবাজ সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী।

গণপূর্তমন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয়ের কর্মচারীদের শতভাগ স্বচ্ছতা নিয়ে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো দুর্নীতিবাজ কর্মচারীর জায়গা তার মন্ত্রণালয়ে হবে না। দুর্নীতিবাজদের ঠিকানা হবে জেলখানায়।

মন্ত্রী আরও বলেন, কিছু কিছু অসৎ ব্যবসায়ী ব্যবসার নামে জনগণের সারা বছরের কষ্টার্জিত আয়ের টাকা নিয়ে প্রতারণা করছে। দেখা যায় শুধু সাইনবোর্ড টানিয়ে জমি বিক্রি করছে। টাকা নিচ্ছে কিন্তু ফ্ল্যাট দিচ্ছে না। এদের সংখ্যা বেশি নয়, হাজারে কয়েকজন। যারাই এ অসৎ ব্যবসায়ের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, নিম্ন মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত সাধারণ মানুষের জন্য ফ্ল্যাট ব্যবস্থা করতে পূর্বাচলে রিহ্যাবের সদস্যদের জমি দেওয়া যায় কি-না তা বিবেচনা করা হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া। তিনি বলেন, মানুষ দুই ধরনের ব্যবসায়ীকে ভয় পায়। এর একটি হলো ম্যানপাওয়ার (আদম ব্যবসায়ী) অন্যটি আবাসন ব্যবসায়ী। আদম ব্যবসায়ীরা ৫ লাখ টাকা বেতনের আশ্বাস দিয়ে বিদেশ নিয়ে যায়। পরে দেখা যায় ১০ হাজার টাকা বেতন পাচ্ছে। অনেকেই চাকরিও পায় না। এ কারণে আদম ব্যবসায়ীদের মানুষ ভয় পায়। একইভাবে আবাসন খাতের কোনো কোনো ব্যবসায়ী মানুষের কাছ থেকে টাকা নেয়। বাড়ি নির্মাণ করে না, আবার টাকাও ফেরত দেয় না। ফলে বাড়ি বানাতে আবাসন খাতের উদ্যোক্তার কাছে যেতে ভয় পায় মানুষ। এ ধরনের প্রতারকদের কারণে আবাসন ব্যবসায়ীদের প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট হয়।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) আইন এ বছর থেকে বাস্তবায়ন হবে। সবার জন্য সহনীয় পর্যায়ে ভ্যাট ধার্য করা হবে। অনেক সময় ভ্যাট কমিয়ে দিলে ব্যবসার উন্নয়ন হয়। এতে রাজস্বও বাড়ে। তবে যে পরিমাণই ভ্যাট ধরা হোক তা সবাইকে দিতে হবে। ফাঁকি দেওয়া চলবে না।

রিহ্যাব সভাপতি আলমগীর সামসুল আলামিন কাজল পূর্বাচলে রিহ্যাবের জন্য জমি বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, বেসরকারিভাবে দুই লাখ ফ্ল্যাট ও ৭০ হাজার প্লট হস্তান্তর করা হয়েছে। আমাদের ফ্ল্যাটগুলো সাধারণত উচ্চবিত্ত এবং উচ্চ মধ্যবিত্তদের জন্য। কিন্তু জমির দামের জন্য নিম্নম্ন আয়ের মানুষের জন্য আমরা কোনো ফ্ল্যাট তৈরি করতে পারছি না। সরকারের কাছ থেকে জমি বরাদ্দ পাওয়া গেলে কম দামে সাধারণ মানুষকে ফ্ল্যাট দেওয়া যাবে।

রিহ্যাবের সিনিয়র সহসভাপতি ও সাংসদ নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন বলেন, এ দেশে ফ্ল্যাট রিজিস্ট্রেশন ফি ১৪-১৬ শতাংশ। দক্ষিণ এশিয়ার কোথাও এত বেশি রিজিস্ট্রেশন ফি নেই।

তিনি আরও বলেন, ২০০৮ সালে আবাসন খাতের ঋণের জন্য বিশেষ তহবিল ছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের। কিন্তু এখন তহবিল না থাকায় সহজে ঋণ পাওয়া যাচ্ছে না। সরকারি চাকরিজীবীদের মতো বেসরকারি চাকরিজীবী ও ছোট ব্যবসয়ীদের গৃহঋণ সুবিধা দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

এবারের মেলায় ২০২টি স্টল রয়েছে। এ ছাড়া ২০টি বিল্ডিং ম্যাটেরিয়ালস ও ১৪ অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠান থাকছে এ মেলায়। দর্শনার্থীরা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলায় প্রবেশ করতে পারবেন।

৫০ টাকার বিনিময়ে একবার এবং ১০০ টাকার বিনিময়ে পাঁচবার পর্যন্ত মেলায় প্রবেশ করা যাবে। টিকিটের র‌্যাফল ড্রতে থাকবে আকর্ষণীয় পুরস্কার।

 



সর্বশেষ সংবাদ