#
“ক্বোর’আন হাদিছ ভিত্তিক শবে বরাত প্রমাণিত তাঁর দলীল”
এপ্রিল ১৪, ২০১৯, ৮:২২ অপরাহ্ণ

“ক্বোর’আন হাদিছ ভিত্তিক শবে বরাত প্রমাণিত তাঁর দলীল”
মোঃ সাখাওয়াত হোসাইন ভূইয়া,ছারছীনা প্রতিনিধি,
হাদীস শরীফ-এ শবে বরাতের অশেষ ফযীলত , হাদীছ শরীফে বর্ণিত রয়েছে-
“নিশ্চয়ই পাঁচ রাত্রিতে দোয়া নিশ্চিতভাবে কবুল হয়ে থাকে। (১) রজব মাসের প্রথম রাতে, (২) শবে বরাতের রাতে, (৩) ক্বদরের রাতে, (৪) ঈদুল ফিতরের রাতে, (৫) ঈদুল
আযহার রাতে।”
হাদীছ শরীফ-এ আরো ইরশাদ হয়েছে-
 “হযরত আলী আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
তিনি ইরশাদ করেন, “যখন শা’বানের পনের তারিখ রাত্রি উপস্থিত হবে তখন তোমরা উক্ত রাত্রিতে নামায আদায় করবে এবং দিনে রোযা রাখবে। কেননা নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক তিনি উক্ত রাত্রিতে সূর্যাস্তের সময় পৃথিবীর আকাশে আসেন অর্থাৎ রহমতে খাছ নাযিল করেন। অতঃপর ঘোষণা করেন, “কোন ক্ষমা প্রার্থনাকারী আছ কি? আমি তাকে ক্ষমা করে দিব।” “কোন রিযিক প্রার্থনাকারী আছ কি? আমি তাকে রিযিক দান করব।” “কোন মুছিবতগ্রস্থ ব্যক্তি আছ কি? আমি তার মুছিবত দূর করে দিব।” এভাবে ফজর পর্যন্ত ঘোষণা করতে থাকেন।” সুবহানাল্লাহ! (ইবনে মাজাহ্, মিশকাত)
 “লাইলাতুম মুবারাকা” দ্বারা বিশ্ববিখ্যাত ছাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা এবং হযরত ইকরামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনারা বলেন-
  “লাইলাতুম মুবারাকা দ্বারা লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান তথা অর্ধ শাবানের রাত (শবে বরাত)কে বুঝানো হয়েছে। এবং উহার নামে নামকরণ করা হয়েছে যেমন “লাইলাতুর রহমত” তথা রহমতের রাত, “লাইলাতুল মুবারাকাতু”তথা বরকতের রাত। “লাইলাতুছ ছেক”ভাগ্য লিপিবদ্ধকরণের রাত তথা ভাগ্য রজনী।”
আর লাইলাতুম মুবারাকা(বরকতপূর্ণ রাত) দ্বারা শবে বরাত তথা ভাগ্য রজনীকে বুঝানো হয়েছে তার যথার্থ প্রমাণ বহন করে তার পরবর্তী আয়াত শরীফের “ইউফরিকু” (বণ্টন করা হয়।) শব্দ দ্বারা। কেননা তাফসীর জগতের সকল তাফসীরে সমস্ত মুফাসসীরীনে কিরাম উনারা “ইউফরিকু”শব্দের তাফসীর করেন “ইয়াকতুব “(লেখা হয়), ফায়ছালা করা হয়, বণ্টন বা নির্ধারণ করা হয়,বাজেট করা হয়,“ নির্দেশনা দেয়া হয় বা ফায়ছালা করা হয়, ইত্যাদি শব্দের মাধ্যমে। কাজেই “ইউফরিকু” শব্দের অর্থ ও তার ব্যাখ্যার দ্বারা আরো স্পষ্টভাবে ফুটে উঠল যে, “লাইলাতম মমুবারাকা” দ্বারা “লাইলাতুন নিসফি মমিন সা’বান” র্অথাৎ অর্ধ সা’বানের রাত, বা শবে বরাত তথা ভাগ্য রজনীকে বুঝানো হয়েছে। যেই রাতে সমস্ত মাখলুকাতের ভাগ্যগুলো সামনের এক বৎসরের জন্য লিপিবদ্ধ করা হয়, আর সেই ভাগ্য লিপি অনুসারে রমাদ্বান মাসে লাইলাতল ক্বদর বা শবে ক্বদরে তা চালু করা হয়। এ জন্য  অর্ধ শাবানের রাতকে “লাইলাতুত তাজবিজ”(নির্রণের বা বৈধকরনের রাত) এবং লাইলাতুল ক্বদর কে “লাইলাতুত ততানফিজ” (নির্ধারিত ফয়ছালা কার্যকরী করার রাত বা বৈধকরণ বিষয়ের কার্যকরীকরণের রাত) বলা হয়।
(তাফসীরে মাযহারী, তাফসীর খাযেন, তাফসীরে রুহুল মায়ানী ও রুহুল বায়ান)
কুরআন শরীফ-এর আয়াত শরীফ দ্বারাই ‘শবে বরাত’ প্রমাণিত শবে বরাত বা ভাগ্য রজনীকে স্বয়ং আল্লাহ পাক তিনি স্বীয় কুরআন শরীফ-এ সূরা ‘আদ দোখান’ এর ৩-৪ নম্বর আয়াত শরীফে “লাইলাতুম মুবারাকা”(বরকত পূর্ণ রাত) হিসেবে উল্লেখ করে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন- “নিশ্চয়ই আমি উহা (কুরআন শরীফ) এক রবকতপূর্ণ রাত্রিতে নাযিল করেছি। অর্থাৎ নাযিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। নিশ্চয়ই আমি সতর্ককারী, ওই রাত্রিতে সমস্ত হিকমতপুর্ণ কাজসমূহের বণ্টন করা হয় তথা বণ্টনের ফায়সালা করা হয়।”
(সূরা আদ দোখান-৩-৪)
‘লাইলাতুম মুবারাকাহ’ দ্বারা অনুসরনীয় মুফাসসিরীনে কিরাম উনারা শবে বরাতকেই বুঝিয়েছেন।
বিশ্ববিখ্যাত ও সুপ্রসিদ্ধ তাফসীর, তাফসীরুল খাযিন এর ৪র্থ খন্ডের ১১২ পৃষ্ঠায় আরো উল্লেখ আছে- “নিশ্চয়ই আমি এক বরকতময় রাত্রিতে উহা অর্থাৎ পবিত্র কুরআন শরীফ অবতীর্ণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে লাইলাতুম মুবারাকা দ্বারা অর্ধ শা’বান তথা ১৫ই শা’বানের রাতকে (শবে বরাত) উল্লেখ করা হয়েছে। কেননা উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে হাদীছ শরীফ বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি
ইরশাদ করেন, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি অর্ধ শা’বানের রাতে (১৫ই শা’বান রাতে) পৃথিবীর নিকটতম আকাশে অবতরণ করেন, অতঃপর মহান আল্লাহ পাক তিনি ওই রাতে বনী ক্বলব গোত্রের বকরীর পশমের সংখ্যা পরিমাণ অধিক সংখ্যক বান্দাদেরকে ক্ষমা করেন। এই হাদীছ শরীফখানা হযরত ইমাম তিরমিযী রহমতুল্লাহি তিনি বর্ণনা করেন।
১. ‘শবে বরাত’ কথাটি আরবী এবং ফার্সী ভাষার সংমিশ্রনে গঠিত। যার অর্থ হচ্ছে ভাগ্য রজনী বা মুক্তি তথা নাজাতের রাত।
২. পবিত্র কুরআন শরীফ-এ শবে বরাতকে ‘লাইলাতুম মুবারাকাহ’ অর্থাৎ বরকতময় রজনী বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
৩. হাদীছ শরীফ-এ শবে বরাতকে ‘লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান’ অর্থাৎ শা’বানের মধ্য রাত বা শা’বানের ১৫ তারিখ রাত বলা হয়েছে।
৪. বিশ্বখ্যাত তাফসীর শরীফ, হাদীছ শরীফ, হাদীছ শরীফ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ফিক্বাহ ও ফতওয়ার কিতাবে শবে বরাত-এর উল্লিখিত নাম ছাড়াও আরো বহু নাম উল্লেখ রয়েছে। যেমন লাইলাতুল ক্বিসমাহ, লাইলাতুত তাজবীয, লাইলাতুল ফায়ছালাহ, লাইলাতুল আফউই, লাইলাতুল কারামি, লাইলাতুত তওবাহ, লাইলাতুন নাদাম ইত্যাদি। ৫. পবিত্র কুরআন শরীফ-এর সূরা দুখানের ৩-৪ নং আয়াত শরীফ-এ বর্ণিত “লাইলাতুম মুবারাকা”লাইলাতুম মুবারাকাহ দ্বারা পবিত্র শবে বরাতকেই বুঝানো হয়েছে। যা বিশ্বখ্যাত ও নির্ভরযোগ্য অসংখ্য তাফসীরের কিতাবে বর্ণিত রয়েছে।
৬. একাধিক ছহীহ হাদীছ শরীফ এ বর্ণিত  ‘লাইলাতুন নিছফি মিং শা’বান’ দ্বারা পবিত্র শবে বরাতকেই বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ শা’বান মাসের ১৫ তারিখ রাত অর্থাৎ ১৪ তারিখ দিবাগত রাতটিই মূলত শবে বরাত। যা ছিহাহ সিত্তাহসহ
অসংখ্য নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বখ্যাত হাদীছ শরীফ ও হাদীছ শরীফ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহে উল্লেখ আছে।
৭. যে বা যারাই শবে বরাতকে বিদয়াত বলে থাকে তারা সকলেই কাযযাব, গোমরাহ, বিদয়াতী, ধর্মব্যবসায়ী ও উলামায়ে ‘ছূ’র অন্তর্ভুক্ত। তাদের কথা গ্রহনযোগ্য ও অনুসরণীয় নয়। মূল কথা হলো কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াসের
দৃষ্টিতে পবিত্র শবে বরাত পালন করা জায়িয তো অবশ্যই, তাই শবে বরাতের বিরোধীতা করা কাট্টা কুফরীর অন্তর্ভুক্ত।