#
সুবীর নন্দী বেঁচে থাকবেন মানুষের হৃদয়ে : প্রধানমন্ত্রী
মে ৭, ২০১৯, ১২:০০ অপরাহ্ণ

সংবাদ প্রতিদিন২৪ডটকম ডেক্স

একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য সংগীতশিল্পী সুবীর নন্দীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক শোকবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পাঁচবারের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া এই জনপ্রিয় শিল্পী তাঁর কাজের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন।’

এ ছাড়াও মরহুমের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান প্রধানমন্ত্রী।

উল্লেখ্য, সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশ সময় আজ মঙ্গলবার ভোর ৪টায় সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থান শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সুবীর নন্দী।

এর আগে গত ১৪ এপ্রিল রাতে অসুস্থ হয়ে পড়লে জনপ্রিয় এই সংগীতশিল্পীকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়। সেখানে তাঁকে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়। এক পর্যায়ে লাইফ সাপোর্টও দেওয়া হয়। ১৮ দিন সিএমএইচে থাকার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ৩০ এপ্রিল তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। ওইদিনই সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে তার চিকিৎসা শুরু হয়।

একনজরে সুবীর নন্দী
সুবীর নন্দীর জন্ম ১৯৫৩ সালের ১৯ নভেম্বর হবিগঞ্জের তেলিয়াপাড়া চা বাগানে, মেডিকেল অফিসার সুধাংশু নন্দী ও পুতুল রানী দম্পতির ঘরে। সংগীতে মায়ের কাছেই ৭-৮ বছরে হাতেখড়ি। পড়াশোনা শেষে দীর্ঘদিন ব্যাংকে চাকরি করলেও সুবীর নন্দী বাংলা সংগীতাঙ্গনে আসন করে নেন সুরের জাদুতেই। তার প্রথম একক অ্যালবাম ‘সুবীর নন্দীর গান’ বাজারে আসে ১৯৮১ সালে। তবে তিনি প্রথম গান করেন ১৯৭৬ সালে আবদুস সামাদ পরিচালিত ‘সূর্যগ্রহণ’ চলচ্চিত্রে।

আধুনিক সংগীতের পাশাপাশি তিনি শ্রোতাদের মুগ্ধ করেন শাস্ত্রীয় সংগীত, ভজন, কীর্তন এবং পল্লীগীতিতেও। নিজের ভালোলাগার নজরুলসংগীতেও আবেশ ছড়ান সুবীর নন্দী। সংগীতের সব অঙ্গনে মায়া ছড়ানো এই শিল্পী প্রায় পাঁচ দশকের ক্যারিয়ারে গান গেয়েছেন আড়াই হাজারেরও বেশি।

চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক করে সুবীর নন্দী পাচঁবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। বাংলা সংগীতাঙ্গনে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ভূষিত হন একুশে পদকেও।

সুবীর নন্দীর গাওয়া ‘ও আমার উড়াল পঙ্খী রে’, ‘একটা ছিল সোনার কন্যা’, ‘পাখিরে তুই দূরে থাকলে’, ‘কত যে তোমাকে বেসেছি ভাল’, ‘আমার এ দুটি চোখ পাথর তো নয়’, ‘পৃথিবীতে প্রেম বলে কিছু নেই’, ‘তুমি এমনই জাল পেতেছো সংসারে’, ‘দিন যায় কথা থাকে’র মতো গান তাকে বাঁচিয়ে রাখবে বাংলা সংগীতাঙ্গনে।